সময়স্বল্পতার কারণে এ বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্টটি নিখুঁত ও পরিচ্ছন্নভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বিসিবির আরও সময় প্রয়োজন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ মিরপুরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে 'গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি'র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে এসে বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন তামিম ইকবাল। এ বছর বিপিএল আয়োজনের জন্য বোর্ডের হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আই ডোন্ট থিংক সো। এ বছর বিপিএল হবে না।’
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণ আফ্রিকাকে রুখে দিল বাংলাদেশ
টুর্নামেন্ট না হলে ক্রিকেটারদের যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে, তা মেনে নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে এটা আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু তারাও বোঝে যে এই টুর্নামেন্টটা এমন হওয়া উচিত, যা নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? হয়তো না।’
আয়োজনের মান উন্নত করার বিষয়ে খেলোয়াড়দের ইতিবাচক মনোভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রাও একমত যে জিনিসটা সুন্দরভাবে হওয়া উচিত। যুক্তি আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে মূল বিষয় হলো টুর্নামেন্টটা ঠিকঠাক চালানো। বিপিএল একটা গ্রেট প্রোডাক্ট আর এটা নিয়ে প্রচুর আগ্রহ আছে। এটাকে ঠিকঠাক করতে পারলে আগ্রহ আরও বাড়বে।’
মূলত বিপিএল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পারিশ্রমিক জটিলতা, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি প্রদানে অনিয়ম এবং সম্প্রচারসহ নানাবিধ সংকট দূর করে বিসিবিকে নতুন করে সাজাতে চান বর্তমান সভাপতি। তিনি জানান, বিপিএলের বিগত দুই আসরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাই হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকেই হাঁটছে বোর্ড।
আরও পড়ুনঃ গোল ও অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চেনালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহান
প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘আমাদের ইনটেনশন ১০০০ শতাংশ আছে বিপিএল করার। কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি ঠিকঠাক মতো করতে চাই, তাতে যদি ৬ মাস বা ১২ মাস সময় লাগে, আমি নেব।’
সাধারণত প্রতিবছর ডিসেম্বর-জানুয়ারি ফ্রেমের মধ্যবর্তী সময়ে বিপিএল মাঠে গড়ালেও এবার ওই সময়সূচিতে স্থগিত থাকা বিপিএলের বিকল্প কিছু আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। টুর্নামেন্টের স্থানে বিকল্প কোনো প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে কি না, প্রশ্নের জবাবে তামিম ইকবাল যোগ করেন, ‘আমরা একটা ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০-৭০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে তখন আমি ঘোষণা দেব আমাদের ঘরোয়া ক্যালেন্ডারটা আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটা বেশ আলাদা ও ইন্টারেস্টিং হবে।’

