মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে বসেছে ২০২৬–২৭ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্রয়ের আসর। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় এবারও অংশ নিচ্ছে ৩৬টি দল। চারটি পটে ভাগ করা দলগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি ক্লাবের আট প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হবে।
ড্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন পেদ্রো পিন্টো ও রেশমিন চৌধুরী। শুরুতে তাঁরা মঞ্চে স্বাগত জানান উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনকে।
ড্রয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে বিশেষ একটি পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ‘উয়েফা রেসপেক্ট: বিয়ন্ড দ্য গেম’ পুরস্কারের প্রথম বিজয়ী হিসেবে পিএসজি অধিনায়ক মারকিনিওসের নাম ঘোষণা করেন সেফেরিন।
আরও পড়ুনঃ লর্ডস টেস্টের আগে স্বস্তির খবর পেল পাকিস্তান
পুরস্কারটির জন্য মারকিনিওসকে বেছে নেওয়া হয়েছে ২০২৫–২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তাঁর একটি বিশেষ মুহূর্তের জন্য। বুদাপেস্টের সেই ফাইনালে পিএসজি মুখোমুখি হয়েছিল আর্সেনালের। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে পিএসজি শিরোপা নিশ্চিত করার পর আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েলকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে যান মারকিনিওস। গ্যাব্রিয়েল টাইব্রেকারে তাঁর শটটি মিস করেছিলেন। সেই ক্রীড়াসুলভ আচরণই এবার উয়েফার নতুন পুরস্কারে স্বীকৃতি পেল।
২০২৬–২৭ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে প্রতিটি দল মোট আটটি ম্যাচ খেলবে। চারটি ম্যাচ হবে নিজেদের মাঠে। বাকি চারটি খেলতে হবে প্রতিপক্ষের মাঠে। প্রতিটি দল চারটি পটের প্রতিটি থেকে দুটি করে প্রতিপক্ষ পাবে। একই পটের দুই দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ হবে।
ড্রয়ের ক্ষেত্রে একই দেশের দুটি দল একে অপরের প্রতিপক্ষ হতে পারবে না। অর্থাৎ স্পেনের কোনো দল অন্য স্প্যানিশ দলের বিপক্ষে লিগ পর্বে খেলবে না। একই সঙ্গে কোনো দল অন্য একটি দেশের সর্বোচ্চ দুটি দলের মুখোমুখি হতে পারবে।
উদাহরণ হিসেবে, বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ হিসেবে পিএসজি পড়তে পারে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ বা আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচ হবে না। কারণ একই দেশের দলগুলোকে ড্রয়ের নিয়মে একে অপরের মুখোমুখি করা যাবে না।
কোন পটে কারা
গত দুই আসরের মতো এবারও ড্রয়ে মোট ৩৬টি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলোকে নয়টি করে চারটি পটে ভাগ করা হয়েছে। দলগুলোর পট নির্ধারণ করা হয়েছে উয়েফার ক্লাব কো-এফিসিয়েন্টের ভিত্তিতে।
পট ১:
পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল, ইন্টার মিলান, ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল, বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ।
পট ২:
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, রোমা, স্পোর্তিং সিপি, অ্যাস্টন ভিলা, পোর্তো, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ক্লাব ব্রুগা, রিয়াল বেতিস ও পিএসভি আইন্দহোভেন।
পট ৩:
ফেইনুর্দ, লিল, বোদো/গ্লিমট, নাপোলি, লাইপজিগ, ভিয়ারিয়াল, ফেনেরবাচে, শাখতার দোনেৎস্ক ও গালাতাসারাই।
পট ৪:
স্লাভিয়া প্রাগ, স্লোভান ব্রাতিসলাভা, স্টুটগার্ট, এইকে অ্যাথেন্স, লাস্ক, কোমো, লাঁস, ভাইকিং ও সাবাহ।
আরও পড়ুনঃ রবিনসন-টাংয়ের পেসে বিধ্বস্ত পাকিস্তান
এবারের আসরে চারটি দল প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে খেলছে। দলগুলো হলো কোমো, লাস্ক, ভাইকিং ও সাবাহ।
ড্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে। উয়েফার সূচি অনুযায়ী, লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর। প্রথম ম্যাচডে চলবে ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচডে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর, তৃতীয় ম্যাচডে ২০ ও ২১ অক্টোবর এবং চতুর্থ ম্যাচডে ৩ ও ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
পঞ্চম ম্যাচডে হবে ২৪ ও ২৫ নভেম্বর। ষষ্ঠ ম্যাচডে ৮ ও ৯ ডিসেম্বর। সপ্তম ম্যাচডে ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০২৭। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচডে হবে ২৭ জানুয়ারি ২০২৭।
লিগ পর্ব শেষে শুরু হবে নকআউট পর্ব। নকআউট পর্বের প্লে-অফ হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর মার্চে শেষ ষোলো, এপ্রিলে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হবে ৫ জুন ২০২৭। মাদ্রিদের এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বসবে ফাইনালের আসর।
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, লিগ পর্বের ড্রয়ে প্রতিটি দলের আট প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হবে। চারটি পট থেকেই দুটি করে প্রতিপক্ষ পাওয়া যাবে। একটি দলের চারটি ম্যাচ হবে ঘরের মাঠে এবং চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে তাই ড্র থেকেই তৈরি হবে বড় ম্যাচের সম্ভাবনা। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর সামনে এখন অপেক্ষা করছে আট ম্যাচের নতুন পথচলা।

