আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা দিয়েছিল আর্জেন্টাইন কোচ নেস্তর লরেঞ্জোর কলম্বিয়া। মাঠেও সেই ঘোষণার প্রতিফলন দেখিয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। অন্যদিকে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ গোলের জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া পর্তুগাল এদিন আর নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি। ফলে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ইউরোপের দলটিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শেষ হয় ০-০ গোলে। এই ড্রয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলম্বিয়া। অন্যদিকে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে উঠেছে পর্তুগাল। সেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের প্রতিপক্ষ হবে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের
স্কোরলাইন গোলশূন্য হলেও মাঠের লড়াই ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে একে অপরকে চাপে রেখেছে। ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, কলম্বিয়া পুরো ম্যাচে ২৬টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে পর্তুগাল ১৩টি শট নিতে পারলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র ২টি। বল দখলেও এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। তারা ৫৫ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ৫২৫টি পাস সম্পন্ন করে। পর্তুগালের বল দখল ছিল ৪৫ শতাংশ এবং তারা ৪২৩টি পাস সম্পন্ন করে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হলেও ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দল। সমীকরণ অনুযায়ী, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে কলম্বিয়ার একটি ড্রই যথেষ্ট ছিল। অন্যদিকে শীর্ষস্থান দখল করতে হলে পর্তুগালের জয়ের বিকল্প ছিল না। বিরতির পর রুবেন নেভেস ও জোয়াও কানসেলোর পরিবর্তে দিয়োগো দালোত ও জোয়াও নেভেসকে মাঠে নামান পর্তুগালের কোচ। তবে সেই পরিবর্তনেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি।
ম্যাচের শেষ দিকে দাভিনসন সানচেজের গোলে উল্লাসে ফেটে পড়েছিল কলম্বিয়া। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ডিআর কঙ্গো। শুরুতে ১০ মিনিটে এলদোর শোমুরোদভের গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। ১৭ মিনিটে নাথানিয়েল এমবুকু সমতা ফেরালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল হয়। আক্রমণ শুরুর সময় শেরজোদ নাসরুল্লায়েভের মুখে হাত লাগায় ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
আরও পড়ুনঃ রূপকথার গল্প লিখে নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৬৮ মিনিটে আবদুকোদির খুসানোভের ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ইয়োয়ানে উইসা। এরপর ৭৮ মিনিটে ফিস্তন মায়েলের গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন উইসা। এই জয়ে তৃতীয় স্থান নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করেছে ডিআর কঙ্গো।
এদিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড। প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্ক দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের পর স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হলে স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। বিবিসি স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারই নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে দলের ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ক্লার্ক।
বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। প্রথম ম্যাচে তারা হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে মরক্কোর কাছে ১-০ এবং ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় স্কটিশদের।

