এশিয়ান গেমসে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়তে চান বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দারা। নিজেদের গ্রুপে থাকা প্রতিটি দলই শক্তিশালী বলে মনে করেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে চান মারিয়ারা।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার চীনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্প করবে দলটি। খেলবে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে চান মারিয়া।
সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন মারিয়া। কোচ পিটার জেমস বাটলারের পাশে বসে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের কথাই জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল ইন্দোনেশিয়া
মারিয়া বলেন, ‘এশিয়ান গেমস উপলক্ষে আজ আমরা চায়না যাচ্ছি (ক্যাম্প করতে)। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেন সুন্দরভাবে পারফরম করতে পারি। আমরা এশিয়ান গেমসে যে গ্রুপে পড়েছি, সব দল খুব ভালো। তো আমরা যেন ভালোভাবে তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি এবং আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারি, সেই উদ্দেশ্য থাকবে আমাদের।’
নিজেদের দল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী এই মিডফিল্ডার। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসে কাজে লাগবে বলে মনে করেন তিনি।
মারিয়ার ভাষায়, ‘আমাদের দলটিও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতিও খুব ভালো হচ্ছে। সাফে খেলে আমরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা আমাদের অনেক সাহায্য করবে। কারণ সেখানে আমরা বেশ কিছু ভালো দলের মুখোমুখি হয়েছি।’
চীনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ম্যাচগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মারিয়া।
তিনি বলেন, ‘এখন অনুশীলনের উদ্দেশ্যে আমরা চীনে যাচ্ছি, যেখানে দুটি ম্যাচ খেলা হবে। শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
ম্যাচের ফলাফল নিয়ে আগেভাগে কোনো মন্তব্য করতে চান না মারিয়া। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নয়, নিজেদের খেলায় মনোযোগ রাখার কথাই জানিয়েছেন তিনি।
মারিয়া বলেন, ‘ম্যাচের ফলাফল সব সময় খেলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হোক বা সাধারণ, নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট হারানোর ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি বাংলাদেশের। এবার আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে এশিয়ান গেমসে। সেখানে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।
এবারের এশিয়ান গেমস জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৪ অক্টোবর শেষ হবে। তবে নারী ফুটবলের ইভেন্ট শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর।
নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। গ্রুপটি বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন। কারণ তিন প্রতিপক্ষেরই আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্ত অবস্থান রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে হারিয়ে দিল অনূর্ধ্ব-১৯ দল
উত্তর কোরিয়া এই ইভেন্টে তিনবারের সেরা। দক্ষিণ কোরিয়ার রয়েছে তিনটি ব্রোঞ্জ পদক। এই গ্রুপে এখনো কোনো পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।
শুধু পদকের ইতিহাস নয়, ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে মিয়ানমার। বর্তমানে মিয়ানমারের অবস্থান ৫৫তম। সেখানে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৭তম স্থানে।
নিকট অতীতে গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের। গত বছর জুলাইয়ে মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উইমেন’স এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ।
তবে এশিয়ান কাপে গিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় দলকে। গত মার্চে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা।
এই বাস্তবতায় এশিয়ান গেমসে বড় কোনো স্বপ্নের কথা বলেননি বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। বরং দলের প্রস্তুতির ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
চীনে ১০ দিনের ক্যাম্প ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে দলকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে চান বাটলার। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে নিজেদের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলো আরও ভালোভাবে বুঝে নিতে চাইবে বাংলাদেশ।
কোচের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত মারিয়াও। তার লক্ষ্য পরিষ্কার। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করা।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার এশিয়ান গেমসে নিজেদের আরও ভালোভাবে মেলে ধরতে চায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। কঠিন গ্রুপ হলেও লড়াই থেকে পিছিয়ে আসতে চান না মারিয়ারা।

