বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিসর। ম্যাচটি ঘিরে অপ্টার সুপার কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উভয়ই আর্জেন্টিনাকে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে দেখিয়েছে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ সংস্থা অপ্টা ম্যাচটি নিয়ে ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
অপ্টার হিসাব বলছে, নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠা মিসরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
আরও পড়ুনঃ একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, একাদশে আছেন যারা
একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের ফর্ম, মুখোমুখি পরিসংখ্যান, আক্রমণ ও রক্ষণভাগের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে এআইও মনে করছে, নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ।
এআইয়ের বিশ্লেষণে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ এবং মিসরের জয়ের সম্ভাবনা ১২ শতাংশ ধরা হয়েছে। সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে আর্জেন্টিনার ২–১ গোলের জয়। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বলের দখল, পাসিং এবং আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখাতে পারে লিওনেল স্কালোনির দল।
তবে কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, দুই দলই আগের রাউন্ডে ১২০ মিনিট লড়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। ফলে তুলনামূলক কম বিশ্রাম নিয়েই মাঠে নামতে হবে উভয় দলকে।
এ কারণে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, ক্লান্তি, ফিটনেস এবং ম্যাচ চলাকালে চোটের বিষয়টি ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নকআউট পর্বের চাপও যে কোনো সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
এআই মিসরকে মোটেও হালকাভাবে দেখছে না। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য গোলদাতাদের তালিকায় আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। অন্যদিকে মিসরের হয়ে গোল করার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে। বড় ম্যাচে তাঁর অভিজ্ঞতা ও একক দক্ষতাকেই মিসরের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে এআই।
অতীতের পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। সিনিয়র পর্যায়ে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে ২–০ গোলের জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুনঃ সরাসরি ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলবে আর্জেন্টিনা
শুধু মুখোমুখি লড়াই নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক সাফল্যও দলটিকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে।
তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান, সুপার কম্পিউটার কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাসই শেষ কথা নয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা কোনো খেলোয়াড়ের অসাধারণ নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের ভাগ্য। এখন দেখার বিষয়, পূর্বাভাস সত্যি প্রমাণ করে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে, নাকি সব হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণ করে নতুন ইতিহাস গড়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় মিসর।

