যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই আটটি দলের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি ১২টি গ্রুপের সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও রাউন্ড অব ৩২-এ খেলার সুযোগ পেলেও হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান, পানামা, কাতার, চেক প্রজাতন্ত্র ও কুরাসাও সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি। নতুন টাইব্রেকার নিয়মের কারণেই মূলত দলগুলো আগেভাগেই বিদায় নিশ্চিত করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আগের আসরগুলোর তুলনায় ভিন্ন টাইব্রেকার পদ্ধতি চালু করেছে ফিফা। এবার সমান পয়েন্ট হলে প্রথমেই বিবেচনায় আনা হচ্ছে সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর পারস্পরিক বা মুখোমুখি ম্যাচের ফল। এই নিয়মের কারণেই শেষ ম্যাচ বাকি থাকলেও কয়েকটি দলের আর নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থাকছে না।
আরও পড়ুনঃ জর্ডানের বিপক্ষে মেসিকে একাদশে না রাখার ইঙ্গিত, দলে চমক
হাইতি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, জর্ডান ও পানামা মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেই শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা হারিয়েছে। শেষ ম্যাচ জিতে তারা ৩ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারলেও যে দলের সঙ্গে পয়েন্টে সমতা আনার সুযোগ ছিল, সেই দলের কাছেই তারা আগেই হেরে গেছে। ফলে নতুন টাইব্রেকার নিয়ম অনুযায়ী সমান পয়েন্ট হলেও ওই দলগুলোর ওপরে ওঠা সম্ভব নয়। এ কারণেই গ্রুপে চতুর্থ স্থান থেকে ওপরে ওঠার সুযোগ হারিয়ে নকআউট পর্বের স্বপ্নও শেষ হয়ে গেছে।
একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছে কুরাসাও। প্রথম দুই ম্যাচে তারা এক পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর কোনো পয়েন্ট যোগ করতে পারেনি। ফলে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর লড়াই থেকেও ছিটকে গিয়ে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তাদের।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ড শুরুর আগেই কাতার ও চেক প্রজাতন্ত্রের নকআউট পর্বে ওঠার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। শেষ ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, কোনো সমীকরণেই তারা শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিতে পারছিল না। ফলে আগেভাগেই বিদায় নিশ্চিত হয় দুই দলের।
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত বিদায় নিশ্চিত হওয়া আটটি দল হলো—চেক প্রজাতন্ত্র (গ্রুপ ‘এ’), কাতার (গ্রুপ ‘বি’), হাইতি (গ্রুপ ‘সি’), তুরস্ক (গ্রুপ ‘ডি’), কুরাসাও (গ্রুপ ‘ই’), তিউনিসিয়া (গ্রুপ ‘এফ’), জর্ডান (গ্রুপ ‘জে’) এবং পানামা (গ্রুপ ‘এল’)।
আরও পড়ুনঃ ফিফার বিশেষ নিয়মে গ্রুপে তৃতীয় হয়েও নকআউট পর্বে যেতে পারে যেসব দল
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে একাধিক দল সমান পয়েন্ট পেলে অবস্থান নির্ধারণে ফিফা নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করছে। প্রথমে দেখা হচ্ছে সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মুখোমুখি ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। এরপর বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে সেই মুখোমুখি ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান এবং করা গোলের সংখ্যা। এরপরও সমতা থাকলে পুরো গ্রুপ পর্বের মোট গোল ব্যবধান ও মোট গোলের হিসাব দেখা হবে। তারপর সবচেয়ে কম লাল কার্ড পাওয়া দলকে এগিয়ে রাখা হবে। এরপর বিবেচনা করা হবে সবচেয়ে কম হলুদ কার্ড পাওয়া দলকে। সবশেষেও সমতা থাকলে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফিফার এই নতুন টাইব্রেকার পদ্ধতির কারণে অনেক দল শেষ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্বের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে। যদিও এবার তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর জন্যও শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবু মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলই শেষ পর্যন্ত কয়েকটি দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

