২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় প্রতিপক্ষ নয়, বরং ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হলেও তিনি কি আজ মাঠে নামবেন, নাকি আগের ম্যাচগুলোর মতো ডাগআউটেই কাটবে সময়—এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে।
বিশ্বকাপজুড়ে নেইমারকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। তাঁকে নিয়ে প্রতিবারই আলোচনার ঝড় উঠেছে, কিন্তু বাস্তবে মাঠে দেখা গেছে খুবই কম। আজ শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও সেই অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এমন একটি ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল নেইমার ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের দ্বৈরথ। কিন্তু হলান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও নেইমারের জায়গা দখল করে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
আরও পড়ুনঃ প্যারাগুয়ে ম্যাচের পর বিস্ফোরক মন্তব্য এমবাপ্পের
চোট থেকে সেরে উঠলেও নিয়মিত খেলায় ফিরতে পারেননি ব্রাজিলের এই তারকা। যদিও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার এখন ৯০ মিনিট খেলার মতোই ফিট। তবে তাঁকে কতক্ষণ খেলানো হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে চাননি ইতালিয়ান এই কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘তবে ও কতক্ষণ খেলবে, সেটা আগে থেকে বলার সুযোগ নেই। যখনই মনে করব দলের ওকে প্রয়োজন, তখনই ও মাঠে নামবে।’
কোচের এই বক্তব্যে পরিষ্কার, নেইমার মাঠে নামতে পারেন, আবার পুরো ম্যাচ বেঞ্চেও কাটাতে পারেন। ফলে তাঁকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
পায়ের চোট নিয়েই এবারের বিশ্বকাপে এসেছিলেন নেইমার। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মাত্র ১৪ মিনিট মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ওই অল্প সময় খেলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচ শেষে তাঁর কান্না, সন্তানকে কোলে নেওয়ার ছবি এবং আবেগঘন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষেও তাঁকে মাঠে নামানোর প্রয়োজন হয়নি। ফলে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের চার ম্যাচে নেইমারের মাঠে থাকার সময় মাত্র ১৪ মিনিট।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমারকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল। টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, অন্য তারকারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে আলো ছড়িয়েছেন। কেউ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন, কেউ দলের সাফল্যের নায়ক হয়েছেন। শুধু নেইমারই রয়ে গেছেন আলোচনার বাইরে, কারণ মাঠে তাঁকে দেখাই যায়নি।
আরও পড়ুনঃ সেমিফাইনালের পথে মরক্কোর বাধা টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট ফ্রান্স
ব্রাজিল যদি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়, তাহলে আরও চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে। সমর্থকদের আশা, সেই ম্যাচগুলোতে অন্তত নিয়মিত মাঠে দেখা যাবে তাঁদের প্রিয় তারকাকে। তবে সেই আশা পূরণ হবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত।
সবচেয়ে বড় আক্ষেপ অবশ্য নেইমারের নিজেরই। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী মাঠে সময় পাচ্ছেন না। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এখন পর্যন্ত কোচ আনচেলত্তির প্রশংসা।
ব্রাজিল কোচ ‘ফোলিয়া দে সাও পাওলো’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার সম্পর্কে বলেন, ‘ও তো ভালো ছেলে, কথা শোনে। মন খারাপ করবে না।’
এমন প্রশংসা অবশ্য মাঠে খেলার বিকল্প হতে পারে না। যে নেইমারকে ঘিরে বিশ্বকাপের আগে ‘গোল্ডেন বুট’ কিংবা ‘গোল্ডেন বল’ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেই নেইমার এখন নিজের ফুটবলের চেয়ে বেঞ্চে বসে থাকার কারণেই বেশি আলোচিত।
এখন দেখার বিষয়, নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আনচেলত্তি কি অবশেষে নেইমারের ওপর আস্থা রাখবেন, নাকি বিশ্বকাপে তাঁর ‘মরীচিকা’ হয়ে থাকার গল্পে যুক্ত হবে আরও একটি অধ্যায়।

