২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হয়েছে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে কেপ ভার্দে। একই সময়ে স্পেন ১-০ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়েকে। ফলে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠেছে কেপ ভার্দে, আর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ার পরই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর আলজেরিয়া জর্ডানকে হারালে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দলের। তখন থেকেই নিশ্চিত ছিল, রাউন্ড অব ৩২-এ ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আরও পড়ুনঃ নকআউট পর্বে ফ্রান্স-নরওয়ের প্রতিপক্ষ কারা
শুক্রবার ‘এইচ’ গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচের পর সেই সমীকরণও পরিষ্কার হয়ে যায়। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে। সেই ড্র-ই তাদের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করতে যথেষ্ট ছিল। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় আফ্রিকার দেশটি।
অন্যদিকে উরুগুয়ের জন্য শেষ ম্যাচটি ছিল হতাশার। স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল হওয়া সত্ত্বেও নকআউটে উঠতে না পারায় এটি উরুগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রুপ ‘এইচ’-এর লড়াই ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জমজমাট। শেষ ম্যাচের আগে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব—চার দলেরই নকআউটে ওঠার সুযোগ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত স্পেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং কেপ ভার্দে রানার্সআপ হিসেবে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নেয়।
গ্রুপ ‘এইচ’-এর চূড়ান্ত অবস্থান—
১. স্পেন — ৪ পয়েন্ট
২. কেপ ভার্দে — ২ পয়েন্ট
৩. উরুগুয়ে — ২ পয়েন্ট
৪. সৌদি আরব — ১ পয়েন্ট
কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ের পয়েন্ট সমান হলেও ফিফার নতুন টাইব্রেকার নিয়মে আফ্রিকার দলটিই দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে।
আগামী ৩ জুলাই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও, বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
রাউন্ড অব ৩২ পেরোতে পারলে শেষ ষোলোতে ‘ডি’ ও ‘জি’ গ্রুপের রানার্সআপদের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুনঃ দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে উড়ে গেল নরওয়ে
এরই মধ্যে ‘ডি’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের পর রানার্সআপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ‘জি’ গ্রুপের সমীকরণ এখনো খোলা। বেলজিয়াম, ইরান, মিশর ও নিউজিল্যান্ড—চার দলেরই পরের পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে। শেষ ম্যাচের ফলাফলের পরই নির্ধারিত হবে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পরবর্তী প্রতিপক্ষ।
এবারের বিশ্বকাপে ফিফা প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ধাঁচের টাইব্রেকার পদ্ধতি চালু করেছে। দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হয় সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মুখোমুখি ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট। এরপর দেখা হয় মুখোমুখি ম্যাচের গোল ব্যবধান, করা গোলের সংখ্যা, পুরো গ্রুপে গোল ব্যবধান, মোট গোল, লাল কার্ড, হলুদ কার্ড এবং সবশেষে ফিফা র্যাঙ্কিং।
আর্জেন্টিনা রাউন্ড অব ৩২ এবং শেষ ষোলো উতরে যেতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষা করতে পারে আরও কঠিন পরীক্ষা। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে পর্তুগাল, যারা নিজেদের গ্রুপে কলম্বিয়ার সঙ্গে শীর্ষস্থানের লড়াই করছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড বা কানাডার বিপক্ষেও খেলতে হতে পারে লিওনেল মেসিদের।
সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল কিংবা ইংল্যান্ড, যদি তারা নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়।
অন্যদিকে ব্র্যাকেটের নিচের অংশে রয়েছে ‘ই’, ‘এফ’, ‘জি’, ‘এইচ’ ও ‘আই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা। ফলে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন কিংবা বেলজিয়ামের মতো ইউরোপের পরাশক্তিদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কেবল সম্ভাব্য ফাইনালেই, যদি দলগুলো নিজ নিজ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে।

