অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 আর্জেন্টিনা দল
আর্জেন্টিনা দল |ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩–২ গোলে হারিয়েছে মিসরকে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে রোমাঞ্চকর এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগে ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি। সতীর্থদের আলিঙ্গনে তাঁর চোখের জল যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্যালারির দিকে তাকিয়েও আবেগ লুকাতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না আর্জেন্টিনার। প্রথম ১০ মিনিটে মাঝমাঠে বারবার বল হারানো এবং ভুল পাসে এলোমেলো ফুটবল খেলতে থাকে তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৫ মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে যায় মিসর। মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে জাল খুঁজে নেন ইয়াসের ইব্রাহিম। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কিছুই করার ছিল না।

আরও পড়ুনঃ আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: রোনালদো

গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ১৯ মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় তারা। সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ছিল লিওনেল মেসির সামনে। কিন্তু ডান দিকের নিচু কোণে নেওয়া তাঁর শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবের।

এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও গড়েন মেসি। বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ মিস। একই সঙ্গে টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলারও হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এরপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ২৮ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত হেড আবারও রুখে দেন শোবের। তিন মিনিট পর দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে মেসির প্রচেষ্টা। ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজও একান্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তাঁর শটও অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরীয় গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধ শেষে ৬০ শতাংশ বলের দখল এবং সাতটি শট নিয়েও ১–০ গোলে পিছিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে মাত্র দুটি শট নিয়েই এগিয়ে ছিল মিসর।

দ্বিতীয়ার্ধে মিসর আরও একবার বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন মারওয়ান আত্তিয়া।

তবে ৬৮ মিনিটের পর আর ভুল করেনি মিসর। দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে মোহাম্মদ সালাহ বল বাড়িয়ে দেন হাইসেম হাসানের কাছে। তাঁর নিচু ক্রস থেকে কোনো বাধা ছাড়াই গোল করেন মোস্তাফা জিকো। ২–০ গোলে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে তোলে আফ্রিকার দলটি।

কিন্তু এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এই গোলেই ম্যাচে ফেরার আশা জাগে আর্জেন্টিনার।

চার মিনিট পর আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। লাওতারো মার্তিনেজের তৈরি করা আক্রমণে বল বদলি খেলোয়াড় গনসালো মন্তিয়েলের গায়ে লেগে চলে আসে মেসির সামনে। সুযোগ পেয়েই শট নেন তিনি। গোলরক্ষক শোবের বল ছুঁতে পারলেও সেটি ক্রসবারের নিচে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ২–২ সমতায় ফিরেই নতুন জীবন পায় আর্জেন্টিনা।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে নাটকীয় জয়। দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে লাওতারো মার্তিনেজের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোলেই ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুনঃ রাতে মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা, মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে

বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্নও বেঁচে থাকে আরও একটি ম্যাচের জন্য।

ম্যাচের আগে দুই দলের পরিসংখ্যানও ছিল আর্জেন্টিনার পক্ষে। আগের দুই দেখাতেই জয় ছিল আলবিসেলেস্তেদের। ১৯২৮ অলিম্পিকের সেমিফাইনালে মিসরকে ৬–০ গোলে হারিয়েছিল তারা। পরে ২০০৮ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচেও ২–০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রেখে এবারও জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল মেসির দল।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!