বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে দাপুটে এই জয়ে গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে পৌঁছে গেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। আরেক আয়োজক মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ পর্বে উঠল যুক্তরাষ্ট্র।
এই জয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালের পর প্রথমবার টানা দুই ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে। ‘ডি’ গ্রুপে শীর্ষস্থান এখনো নিশ্চিত না হলেও অবস্থান বেশ শক্ত অবস্থানে আছে স্বাগতিকরা। তুরস্ক ও প্যারাগুয়ের ম্যাচ ড্র হলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুনঃ ৭১ সেকেন্ডের দ্রুততম গোলেই জিতল মরক্কো
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪–১ গোলের বড় জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকরা। চোটের কারণে দলের মূল তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ না থাকলেও আক্রমণে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি যুক্তরাষ্ট্রের খেলায়।
ম্যাচের ১১তম মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বাঁ প্রান্ত থেকে ফোলারিন বালোগানের বাড়ানো ক্রস আটকাতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্জেস বল নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন। ফলে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। সের্হেনিও দেস্তের দূরপাল্লার শট বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে উপরে উঠে গেলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় হেড করে বল জালে পাঠান ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলেও ভিডিও সহায়তা (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এটি ছিল ফ্রিম্যানের বিশ্বকাপে প্রথম গোল।
আরও পড়ুনঃ প্রথমার্ধেই হাইতির জালে ৩ গোল, বড় জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল
দুই গোলের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা হিসাবি ফুটবল খেলে যুক্তরাষ্ট্র। বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া আক্রমণে ফিরতে চেষ্টা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
ম্যাচ শেষে স্বস্তির খবর আসে পুলিসিচকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল জানায়, তাঁর বাঁ পায়ের কাফের চোটের উন্নতি হচ্ছে। তবে তার ব্যাপারে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না দল।
মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের এই টানা জয়ে নকআউট পর্বে তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। ‘ডি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে স্বাগতিকরা। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া। একটি করে ম্যাচ খেলা তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে এখনো কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি।

