বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে বড় জয়ের পথে এগিয়ে গেছে ব্রাজিল। মাতেউস কুনিয়ার জোড়া গোলের পর যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলের সুবাদে বিরতিতে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে কার্লো আনচেলত্তির দল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ভিনিসিয়ুস। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে যান তিনি। এরপর দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। দারুণ এই গোলের মাধ্যমে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় সেলেসাওরা।
আরও পড়ুনঃ কুনিয়ার জোড়া গোলে হাইতির বিপক্ষে বড় জয়ের পথে ব্রাজিল!
এর আগে ৩৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মাতেউস কুনিয়া। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের সূচনা করে কুনিয়াকে ডিফেন্সচেরা এক চমৎকার পাস দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেই বল ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করে ব্যবধান ২–০ করেন কুনিয়া।
২৩তম মিনিটে ব্রাজিলকে প্রথম লিড এনে দিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ডই। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রথম শটটি প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে দ্রুত পৌঁছে গিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন কুনিয়া।
ব্রাজিলের তিন গোলের মধ্যে ভিনিসিয়ুস সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনটিতেই। প্রথম গোলের সূচনা, দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট এবং তৃতীয় গোলটি নিজে করে দুর্দান্ত এক প্রথমার্ধ কাটিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে স্বভাবসুলভ ধারালো রূপে দেখা গেছে এই ম্যাচে।
তবে ম্যাচের শুরুটা এতটা মসৃণ ছিল না। ১২তম মিনিটে রাফিনিয়া বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। ভিডিও পর্যালোচনার পর নেওয়া সেই সিদ্ধান্তে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় ব্রাজিল।
এরপর ২২তম মিনিটে আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া। ডান দিক থেকে পাওয়া থ্রু পাসে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও ফাঁকা পোস্টে বল রাখতে ব্যর্থ হন বার্সেলোনা তারকা।
আরও পড়ুনঃ কুনিয়ার গোলে এগিয়ে গেল ব্রাজিল
রাফিনিয়ার দুর্ভাগ্য আরও বাড়ে ৪০তম মিনিটে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন বোর্নমাউথের ফরোয়ার্ড রায়ান।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করার পর প্রথম জয়ের লক্ষ্য নিয়ে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইবানিয়েজ ও ইগর থিয়াগোর জায়গায় সুযোগ পাওয়া মাতেউস কুনিয়া জোড়া গোল করে কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।
হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে ছিলেন আলিসন, দানিলো, মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, দগলাস সান্তোস, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারাইস, লুকাস পাকেতা, রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
প্রথমার্ধ শেষে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ব্রাজিল এখন শুধু জয়ের নয়, বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান নতুন করে ছন্দে ফেরানোর স্বপ্নও দেখছে।

