চোট কাটিয়ে ফিরে বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। এরপর টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ৫ উইকেটের স্বাদ নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দেন শরীফুল। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার ১৬৫ রানে ৮ উইকেট পতানের মধ্যে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন এই পেসার।
ম্যাকাইয়ের উইকেটে টেস্টের প্রথম দিনেই মোট ১৮টি উইকেটের পতন ঘটে। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্কের তোপে পড়ে বাংলাদেশ। স্টার্কের ১২ রানে ৬ উইকেটের বিধ্বংসী স্পেলে এক পর্যায়ে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসে দল। শেষ উইকেটে শরীফুল ও তাইজুল ইসলামের ২৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ৬৪ পর্যন্ত পৌঁছায়।
আরও পড়ুনঃ আর্জেন্টিনার ৩ ফুটবলারকে ১৮ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’ বলছে এএফএ
ইনিংস বিরতিতে উইকেটের আচরণ নিয়ে ফক্স স্পোর্টসকে জশ হ্যাজলউড বলেন, ‘উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুটা সুবিধা ছিল। বাউন্সে কিছুটা অসামঞ্জস্য ছিল, সিম মুভমেন্টও কিছুটা অনিয়মিত ছিল। বাতাসের কারণে সুইং হচ্ছিল। তবে পরের দিকে উইকেট কিছুটা ফ্ল্যাট হয়ে আসে।’ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা নির্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ ধরনের উইকেটে প্রথম ২০ ওভার পার করে আসতে পারাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বোলিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর শুরু হয় শরীফুলের বোলিং তোপ। তিনি প্রথমে ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেনকে বোল্ড করেন। পরে থিতু হওয়া স্টিভেন স্মিথ ও বো ওয়েবস্টারকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন। ওয়েবস্টারকে আউটের পর কামিন্সকে আউট করে ৫ উইকেট পূরণ করেন শরীফুল। পরে মিচেল স্টার্ককেও বোল্ড করে নিজের উইকেটের সংখ্যা ৬-এ নিয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ বাবাকে হারানোর পর প্রথম গোল করলেন মেসি
মাঝে মেহেদী হাসান মিরাজ অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এক প্রান্ত ধরে রেখে ৫১ রানে অপরাজিত আছেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে প্রথম ইনিংসে ১০১ রানে এগিয়ে থাকলেও শরীফুলের বোলিং বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৪ ওভারে ৬৪ (শরীফুল ১৪, তাইজুল ১১*; স্টার্ক ৬/১২)। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৪০ ওভারে ১৬৫/৮ (গ্রিন ৫১*, স্মিথ ৪২; শরীফুল ৬/৩৫)।

