২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি স্বীকার করেছেন, কৌশলগত ও কারিগরি—দুই দিক থেকেই প্রত্যাশার অনেক নিচে ছিল ফ্রান্সের পারফরম্যান্স। তার মতে, নিজেদের ভুলের কারণেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের পর ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এম৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি। কৌশলগতভাবে, কারিগরি দিক থেকে এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স—সব ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে ছিলাম। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যদি আপনি যা করা প্রয়োজন, তা করতে না পারেন, তাহলে জেতাও সম্ভব নয়।’
আরও পড়ুনঃ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে চান স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে
স্পেনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘স্পেন তাদের খেলার পরিকল্পনার প্রতি অটল ছিল। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে ভালোবাসে এবং ম্যাচের গতি নিজেরা নির্ধারণ করে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকেই তাদের ওপর চাপ তৈরি করা, যাতে তারা নিজেদের ছন্দ খুঁজে না পায়। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। অনেক বেশি কারিগরি ভুল করেছি এবং যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন তাদের ক্ষতি করার মতো কিছুই করতে পারিনি।’
ফ্রান্সের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে স্পেনের মিডফিল্ডারদের আধিপত্যের কথা উল্লেখ করেন এমবাপ্পে। তার মতে, মাঝমাঠের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়াতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে চলে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে দিয়েছি। সেই ভারসাম্য পরিবর্তন করার দায়িত্ব ছিল আমাদের, কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি। শুরু থেকেই আমাদের প্রেসিংয়ের কারণে মাঝমাঠে বারবার তিন বনাম দুই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে সেটা খুবই কঠিন।’
স্পেনের মিডফিল্ড জুটি ফাবিয়ান রুইজ ও রদ্রির পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ফাবিয়ান এবং রদ্রি অনেক সময় ও জায়গা পেয়েছে খেলতে। প্রেসিংয়ের সময় আমাদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। আমাদের উচিত ছিল একজনের বিপক্ষে একজন লড়াইয়ে যাওয়া এবং তাদেরকে বল ছাড়া দৌড়াতে বাধ্য করা। কারণ তারা এমন দল, যারা বল ছাড়া বেশি দৌড়াতে পছন্দ করে না।’
শুধু রক্ষণ বা প্রেসিং নয়, বল দখলে নেওয়ার পরও নিজেদের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন এমবাপ্পে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বল পুনরুদ্ধার করেছি, তখন প্রথম পাস কিংবা প্রথম স্পর্শের মান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের উপযোগী ছিল না। এই সবকিছু একসঙ্গে যোগ করলে ফলাফল যা হয়েছে, সেটাই স্বাভাবিক।’
আরও পড়ুনঃগোলসংখ্যা সমান হলে গোল্ডেন বুট জিতবেন কে—মেসি নাকি এমবাপ্পে, যেভাবে নির্ধারিত হবে বিজয়ী
এই হারের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নও ভেঙে গেছে এমবাপ্পের। ম্যাচ শেষে নিজের হতাশার কথাও অকপটে জানিয়েছেন তিনি।
ফরাসি অধিনায়ক বলেন, ‘সবার মতো আমিও খুব হতাশ। আমাদের স্বপ্ন ছিল ফাইনালে ওঠা, দেশের মানুষকে আবারও স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেওয়া এবং নতুন ইতিহাস গড়া। কিন্তু এখন আমাদের মাথা উঁচু করেই এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। হতাশাটা এত বড় যে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে, কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে এবং এরপর আবার সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও এমবাপ্পে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন। তবে দলকে ফাইনালে তুলতে না পারার আক্ষেপ তার কণ্ঠে স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে।

