অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় স্বার্থ এবং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় আপাতত ভারত সফরে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আস্থার ঘাটতি, গঙ্গার পানিবণ্টনসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এ সফরের আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: যেভাবে ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যার আসামি
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-ভারতের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ঢাকা অনুরোধ জানালেও দিল্লির কাছ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও সম্ভাব্য দিল্লি সফরের পরিবর্তে তিনি মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফর করেন। গত ২১ থেকে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ওই সফরের পর ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি জাপান ও সৌদি আরব সফর নিয়েও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী
সূত্র জানায়, জাপান সরকার দ্রুত প্রধানমন্ত্রীকে টোকিও সফরে আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহী। আগামী ১২ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য ঢাকা সফর অথবা নিউইয়র্কে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে এ সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন সফরের পর জাপান ও সৌদি আরব সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত দিল্লি সফর চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ভারত সরকার তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। শুরুতে জুলাই মাসে সফরের সম্ভাবনা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে ভবিষ্যতে এ সফরের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

