নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য গল্পকার। সহজ-সরল ভাষা, নির্মল রসবোধ এবং জীবনের গভীর দর্শনকে একসূত্রে গেঁথে তিনি সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য কালজয়ী চরিত্র ও গল্প। তাঁর লেখার হাস্যরস কখনো কাউকে বিদ্রূপ করেনি; বরং পাঠককে হাসিয়েছে, ভাবিয়েছে এবং জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে নিতে শিখিয়েছে।
হিমুর যুক্তিহীন উদাসীনতা, মিসির আলির বিশ্লেষণধর্মী মন, শুভ্রর সরলতা কিংবা ‘বাকের ভাই’ ও ‘রূপা’র মতো চরিত্র—প্রতিটির মধ্যেই ছিল আলাদা ব্যক্তিত্ব ও স্বতন্ত্র রসবোধ। উপন্যাসের পাতা থেকে টেলিভিশনের পর্দা—সবখানেই তাঁর সংলাপ ও গল্প আজও সমান জনপ্রিয়।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিকে ফিরছেন সুমাইয়া শিমু
আজ (১৯ জুলাই) এই কিংবদন্তি লেখকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে অধ্যাপনা ছেড়ে পুরোপুরি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। এর আগেই তাঁর উপন্যাস ও নাটক পাঠক-দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই সাহিত্যাঙ্গনে আলোড়ন তোলেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি দুই শিল্পীর গানে মুগ্ধ এ আর রহমান
উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, গান, চলচ্চিত্র—প্রতিটি মাধ্যমেই রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। তাঁর পরিচালিত ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ ও ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিকেও হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘অয়োময়’, ‘আজ রবিবার’ সহ অসংখ্য নাটক ও ধারাবাহিক এখনও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বিশেষ করে ‘বাকের ভাই’ চরিত্রটি আজও বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
আরও পড়ুন: অভিযোগ অস্বীকার, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা তানজিন তিশার
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রথমে গুলতেকিন আহমেদকে এবং পরে ২০০৪ সালে অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক নন; তিনি বাংলা ভাষার কোটি পাঠকের আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসার এক অবিচ্ছেদ্য নাম।

