গর্ভধারণ একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় মা ও গর্ভের সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিত করতে নানা বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে কর্মক্ষেত্রে বারবার সামনের দিকে ঝুঁকে কাজ করা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ এই নয় যে গর্ভবতী নারীদের স্বাভাবিক চলাফেরা বা নিয়মিত ব্যায়াম ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও পড়ুন: বাবা দিবসে মাহমুদুন্নবীকে স্মরণ করলেন ফাহমিদা নবী
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫ শতাংশ গর্ভধারণ গর্ভপাতের মাধ্যমে শেষ হয়। এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। ঝুঁকির পরিচিত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মা-বাবার বয়স, ধূমপান, রাতের শিফটে কাজ, বায়ুদূষণ এবং কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ। দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকরা খতিয়ে দেখছেন, কর্মক্ষেত্রের শারীরিক কর্মকাণ্ডও গর্ভপাতের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না। তবে এ বিষয়ে আগের গবেষণাগুলোর ফলাফল ছিল পরস্পরবিরোধী।
ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের একদল গবেষক ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ নারীর ৮ লাখ ৩ হাজার ৮২৯টি গর্ভধারণের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে অকুপেশনাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিন সাময়িকীতে।
আরও পড়ুন: যে পাঁচটি তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবক্সে ইনপুট দেবেন না
গবেষণায় কর্মক্ষেত্রের তিনটি সাধারণ শারীরিক কার্যকলাপ—দাঁড়িয়ে থাকা, হাঁটা এবং সামনের দিকে ঝুঁকে কাজ করা—পর্যালোচনা করা হয়। অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকার থেকে সংগৃহীত তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে গবেষকরা নির্ধারণ করেন, বিভিন্ন পেশায় কর্মরত নারীরা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে এসব কাজে কতটা সময় ব্যয় করেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, আট ঘণ্টার কর্মদিবসে প্রায় ৩০ ডিগ্রি কোণে সামনের দিকে ঝুঁকে কাটানো প্রতিটি অতিরিক্ত ঘণ্টার সঙ্গে গর্ভপাতের ঝুঁকি ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। একইভাবে, হাঁটার ক্ষেত্রে প্রতি অতিরিক্ত ঘণ্টায় ঝুঁকি বেড়েছে ১৮ শতাংশ এবং দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষেত্রে বেড়েছে ৩ শতাংশ। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত প্রতি ১০টি গর্ভধারণের মধ্যে প্রায় একটি গর্ভপাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘ব্ল্যাক’ এ প্রতিবাদী কুলি হয়ে ফিরছেন ওমর সানী
গবেষকদের ধারণা, কর্মক্ষেত্রে বারবার শারীরিক পরিশ্রমের ফলে প্লাসেন্টায় রক্তপ্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে অথবা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
তবে বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। ফলে ঝুঁকে থাকা, হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার সঙ্গে গর্ভপাতের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, এগুলো সরাসরি গর্ভপাতের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
আরও পড়ুন: ব্যাংককে শেষ হবে শুটিং, আসছে শাকিবের ‘সোলজার’
এ ছাড়া গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অংশগ্রহণকারী নারীদের গর্ভাবস্থায় ধূমপানের তথ্য গবেষকদের কাছে ছিল না। পাশাপাশি ভারী জিনিস বহন করা বা কর্মক্ষেত্রের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাবও পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই গবেষণার ফলাফলকে সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

