বিহারের বন্যা নিয়ন্ত্রণে ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

বিহারের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি
বিহারের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি|ছবি: সংগৃহীত

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। গঙ্গা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তিনি এ অনুরোধ জানান।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সম্রাট চৌধুরী জানান, ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়া হলে গঙ্গার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে এবং এতে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে।

আরও পড়ুন: অক্টোবরেই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায় ব্রাজিল

সম্রাট চৌধুরী বলেন, ‘গঙ্গা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আজ আমি পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি এবং ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানির প্রবাহ সহজ হবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিহারের নিরাপত্তা ও ত্রাণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

এদিকে ফারাক্কা ব্যারাজ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিহারের জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডিইউ) সাংসদ সঞ্জয় ঝা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, চুক্তিটি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থ অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।

সঞ্জয় ঝা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন? সেই সময়ই বিহারের স্বার্থ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: নাটকীয় জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করল ম্যান সিটি

তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে ওই চুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হবে। তাই বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে চুক্তিটি নবায়ন না করার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঝা বলেন, ‘এই চুক্তির ৩০ বছর আগামী ডিসেম্বরে পূর্ণ হচ্ছে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি, এটি যেন নবায়ন করা না হয়। বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার পরই এ বিষয়ে আলোচনা করা উচিত।’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার পানি বণ্টন ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। তবে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

আরও পড়ুন: মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পদ ৯, আবেদন ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

এর আগে ২০১১ সালে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, তিস্তার পানির ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভারতের এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল। বাকি পানি অন্যান্য বিবেচনার ভিত্তিতে ভাগ করার প্রস্তাব ছিল।

তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে ওই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!