প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতে টেলিগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্ত

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ভারত
টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ভারত|ছবি: সংগৃহীত

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ভারতের দিল্লি উচ্চ আদালত। আদালত এ পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৬ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এ সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমের ওপরও সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে। বর্তমানে ভারতে টেলিগ্রামের ব্যবহারকারী সংখ্যা ১৫ কোটিরও বেশি, যা দেশটিকে অ্যাপটির অন্যতম বৃহৎ বাজারে পরিণত করেছে।

আরও পড়ুন: বাবা দিবসে মাহমুদুন্নবীকে স্মরণ করলেন ফাহমিদা নবী

সম্প্রতি ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করা হয়। অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়েছিল। এর পরপরই টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় সরকার।

দিল্লি উচ্চ আদালতের বিচারপতি তেজস কারিয়া বলেন, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে কোনো অনলাইন মাধ্যমে প্রবেশাধিকার সীমিত করার আইনি ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

অন্যদিকে, টেলিগ্রাম আদালতে দাবি করে, পুরো অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া অতিরিক্ত কঠোর সিদ্ধান্ত। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, প্রশ্নফাঁস রোধে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

টেলিগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাসংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৯০০টিরও বেশি সংযোগ ও চ্যানেল তারা অপসারণ করেছে।

আরও পড়ুন: ২ লাখ ৮৩ হাজার রোহিঙ্গাকে নাগরিক স্বীকৃতি দিল মিয়ানমার

সরকারের অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে বন্ধ হওয়া চ্যানেল পুনরায় চালু করা এবং ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগের কারণে নজরদারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, এতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অথচ অপরাধীরা সহজেই অন্য মাধ্যমে সরে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চলমান বিরোধগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম আলোচিত ঘটনা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) নিয়েও সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: সিন্ডিকেট নির্মূল ও সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের এই ঘটনা ভারতে ইন্টারনেট স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারি নিয়ন্ত্রণের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!