প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেছেন, 'ইতিমধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে।'
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করতেই কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। এই দর্শনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারীপ্রধানকে 'ফ্যামিলি কার্ড' এর মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
'কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে পয়লা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম চলছে। এছাড়া, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে ১৫৬৭.৯৬ (এক হাজার পাঁচশত সাতষট্টি কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ) কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং এর ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবে।'
আরও পড়ুন: শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, প্যাগোডা ও চার্চে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে পাইলট স্কীমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নয় হাজার ১০২ উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্মানি ভাতা প্রেরণ করা হয়েছে। যার আওতা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।'
১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে 'ই-হেলথ কার্ড' প্রদানের উদ্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলার (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে বলেন, 'সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন কিংবা পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় এক হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন কিংবা পুনঃখনন করবে।
আরও পড়ুন: জনবান্ধব কর্মসূচিতে বাধা দিলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে
এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা), টিআর (টেস্ট রিলিফ) এর মাধ্যমে এক হাজার ৫০০ কি.মি. খাল পুনঃখনন করবে।
তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো আগামী পাঁচ বছরে সর্বমোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখনন করা।
আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের জন্য ইতিমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘উৎপাদিত চারাসমূহ চলতি বছর আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। বৃক্ষরোপণ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য স্থানীয় সরকার এবং এনজিওদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।'
তিনি বলেন, 'এ অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজ চলছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে 'ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব' পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।'
'কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের দুই হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও আট হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'ফ্রি ওয়াই ফাই' চালু করা হবে।'
সারা দেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ থেকে দুই বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা
তিনি বলেন, ‘হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫শ ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।'
ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা তিন লাখ হতে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তির পূর্বেই যোগ্যতার সনদপত্রের ভিত্তিতে এ ঋণ প্রদান সহজীকরণ করা হয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।'
আরও পড়ুন: জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করব: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, 'সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে দুই হাজার ৮৭৯ লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।'
এর আগে সকাল ১১ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতেই নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরপর্বে অংশ নেন সংসদ নেতারা।

